Onirban Prothom Prem

tumblr site counter



অনির্বাণ প্রথম প্রেম



 

তোমার হাতের সিগারেট যদি আমি একটা টান দেই , তা হলে কি হয় ?

কি আবার হয়, সিগারেট টানা হয়

আরে হাদা তুমি তো কিছু বোঝো না, আমার ঠোট তোমার ঠোটের ছোয়া পায়, যাকে বলে চুমু

কি গাজাখুরী কথা , সিগারেট থেকে আবার চুমু হয় কি করে ?

প্রথমে তোমার ঠোটে, তার পরে আমার ঠোটে , তার মানে দুটো ঠোটের ছোয়া-ছুয়ী প্যাসিভ চুমু বলা যায় সিগারেট একটা মিডিয়া আর কি

 

এই ভাবেই কথা আগাত । মিঠু আর সুমীর । পরিচয় বেশী দিনের না। মাস চারেক হবে । বিশ্ববিদ্যলয় ভর্তী হওয়ার প্রথম দিনে পরিচয় । দু জনে লাইনে দাড়িয়ে ছিল ভর্তী টাকা জমা দেয়ার জন্যে । বেশ লম্বা লাইন ছিল । সামনে সুমী , পিছনে মিঠু । অসাবধানবসত সুমীর কলমটা হাত থেকে পড়ে গেল । মিঠু কলমটা কুড়িয়ে সুমীর কাছে ফেরত দিল । প্রথমে চোখাচুখি । পরে মিষ্টি করে ধন্যবাদ দেয়া ।


লাইনে দাড়িয়েই অনেক কথা বার্তা হয়ে গেল । দু জন দুই ডিপার্টমেন্টে ভর্তী হচ্ছে । তার পরেও আগালো অনেক টুকুই । নাম জানা জানি থেকে আরম্ভ করে কোথায় থাকে , কি রাশী, প্রিয় রং. প্রিয় বন্ধুদের নাম, প্রিয় ফুল, আরো অনেক কথাই তারা বিনিময় করলো । বের হলে দু জনের প্রিয় রং নীল আর প্রিয় ফুল রজনীগন্ধা। আরো বের হলো দু জনই সিংহ রাশীর । সুমী বললো, এই রাশীর মানুষরা নেতা হতে চায় । চায় সব আগ্রহ তাদের ঘিরেই যাতে থাকে । দুই সিংহ রাশী বেশী দূর আগাতে পারে না ।

তার পরেও ,এক সাথে তারা দুপরে একটা রেস্টুরেন্টে খেল । বিকাল পর্যন্ত একসাথে থাকলো । মাঝে ভর্তী, রেজিসট্রেশান, বই কেনার কাজ গুলো হলো।পরিচত অনেকের সাথে দেখা হলো । হাই , হ্যালো ছাড়া তেমন কোনো কথা অন্যদের সাথে দু জন করলো না । নিজেদেরকেই সব এটেনশান দিল । একটা ছেলে আর একটা মেয়ের পরিচয়ের মোহের সূচনা এইভাবেই হলো । ছোটো একটা ছিদ্র দিয়ে অচেনা বিশাল জগতের দৃশ্য দেখা হলো চট করে দু জনার ।


সুমীর পাড়ায় এক ছেলে থাকে তার নাম রাজা । খুলনা ইঞ্জিননিয়ারিং কলেজে পড়ে । এক বছর মাত্র বাকী পড়া লেখা শেষ করতে । বছর খানিক আগে পরিচয় হয়েছিল এক বিয়ের অনুষ্ঠানে। রাজা সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব করে বসে । সুমী বলে বাবার সাথে কথা বলতে । কি অদ্ভূত । তিন দিন পরে প্রচুর মিষ্টি নিয়ের রাজার বাবা , মা সুমীর বাসায় এসে হাজির । তারা পাকা কথা নিয়ে উঠলেন । রাজার চাকরী হওয়ার সাথে সাথেই বিয়ে হবে । সুমী ভাবলো তার জীবন নির্ধারণ হয়ে গেল তার কোনো মতামত ছাড়াই । এর পর সে যত টুকু না নিজের হবু বর নিয়ে ভেবেছে , তার থেকে বেশী পুলকিত মনে হয়েছিল তার বান্ধবীদের। রাজার বিভিন্ন কথা সুমীকে বলতে তাদের যেন শিহরনের কোনো সীমা ছিল না ।

মিঠু মাত্র ইন্টারমেডিয়েট পাস করেছে । জীবনের লক্ষ্যে পৌছাতে তার অনেক স্বপ্ন, অনেক পরিকল্পনা । এ পর্যন্ত বেশ কিছু মেয়েই তাকে প্রস্তাব করেছে, সম্পর্ক গড়ার জন্যে । কিন্তু তার মনে হয়েছে সে এ জন্যে এখনো প্রস্তুত না । যখন শুনলো সুমী কারো বাগদত্তা, তখন নিশিন্তে মেলামেশা আরম্ভ করলো । তাদের প্রিয় রং, ফুল এক হলেও , রাশী চক্র তাদেরকে অবশ্যই ভিন্ন ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবে।


দু জনের সম্পর্ক একটু অন্য ভাবে আগাতে থাকলো । তাদের বেশীর ভাগ সময় কাটতো দুষ্টুমির ছলে প্রেম প্রেম খেলা আর প্রেমের ডায়ালগ বলে এক জন যখন কোনো প্রেমময় কথা বলত , তখন একই সুরে অন্য জনও জবাব দিত। অন্য কেও শুনলে হয়ত ভাবতো তাদের মধ্যে কঠিন প্রেম চলছে।

এক বার মিঠু সুমীর হাতে একটা আইসক্রিম দিয়ে বললো, তোমার জন্যে হিমালয়ের চূড়া থেকে আনলাম । উত্তরে সুমী বললো , এই আইসক্রিমের জন্যেই সে জন্ম জন্মান্ত থেকে অপেক্ষা করছে । পরের দিন সুমী খুব সেজে গুজে আসলো ।পরনে নীল শাড়ী । বললো তোমার বউ হতে চাই। হিমালেয়ের চূড়া থেকে আনা আইসক্রিমের প্রতিদান হিসাবে। মিঠু কিনে দিল এক গুচ্ছ রজনীগন্ধা। নকল আর খেলা প্রেম মরিচীকার মত যেন বাস্তব হলো ।


প্রেম প্রেম খেলায় অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পারদর্শী হয়ে উঠলো । হাসি আনন্দে সময় কেটে যেত বেশ দ্রুত । মিঠুর প্রিয় ডায়লগ ছিল, আরে বাংলা মুভিতে দেখনা , ভিলেন নায়িকার সাথে বেশী সময় কাটায়। কিন্তু শেষে নায়কেরই জয় হয়। ভিলেনের শত প্রেমের ডায়ালগ নায়িকাকে ধরে রাখতে পারে না। আমার সুমীও তেমন রাজা সাহেবের বউ হয়ে চলে যাবে । আসো আমরা দশ মিনিট জরা-জরি করে কান্নাকাটি করি । তার পরে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা যেতে পারে।




বিশ্ববিদ্যালেয়ে ক্লাস পুরোদমে আরম্ভ হয়ে গেল । বেশ ব্যস্ততা দু জনেরই । তার পরেও দিনের কিছুটা সময় তারা এক সাথে কাটাত। নতুন কথা আর আগের কথা নিয়ে আলোচনা, হাসাহাসি চলত । অনেক কথার ভিতরে চলে আসতো ,প্রিয় রং আর ফুল তাদের মিলে গেলেও , তাদের রাশী এক হওয়ায় বিপদের কথা। সুমী প্রায়ই সন্দিহান প্রকাশ করত, সম্পর্ক হয়তো বেশী দিন টিকবে না । মিঠু এটা নিয়ে সব সময় রসিকতা করত । বলত কয়েক দিনের মধ্যে তুমি পরের ঘরণী হবে , ইঞ্জিনিয়ার রাজার রানী হবে, দশ জন কাজের লোক থাকবে । মিঠু নামের জনৈক সিংহ রাশীর জাতককে ভুলে যাওয়াই ভালো । তা ছাড়া এক বনে যেমন দুই সিংহ থাকতে পারে না , তেমন এক সংসারে দুই সিংহ রাশীর জাতক না থাকাই দেশ আর জাতির জন্যে মঙ্গল জনক । শেষে ওদের প্রেম প্রেম খেলার ধরনটা এমন হয়ে দাড়ালো, সুমীর করত অনবরত প্রস্তাব আর মিঠু করে যেত সমান তালে প্রত্যাখান ।

আজ সুমী সিগারেট আর ঠোট নিয়ে যা বলল, মিঠুর কাছে তা আগের মতো কোন দুষ্টুমি ছাড়া কিছু মনে হলো না ।

সুমীর মা কঠিন শাসনে তার মেয়েকে মানুষ করেছে । তিন ভাই বনের মধ্যে সব চেয়ে ছোট সুমী । বড় দুই জন ভাই। সবার অনেকটা প্রধান কাজটা ছিল সুমীকে চোখে চোখে রাখা ।এক বার বড় ভাই রঞ্জনের এক বন্ধু গোপনে একটা চিঠি দিল সুমীকে । রঞ্জন থাকবে না এমন একটা সময় সিরাজ বেছে নিল । কলিং বেল টিপতেই সুমী দরজা খুলে দিলো । অবাক হলো সিরাজকে দেখে । তার তো জানার কথা রঞ্জন অফিসের কাজে বরিশাল গেছে । আসতে সপ্তাহ খানেক বাকি। সিরাজ বলল এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম । ভাবলাম তোমাদের সাথে একটু দেখা করে যাই। তা ছাড়া হুমায়ুন আহমেদের একটা নতুন বই বেরিয়েছে, তা নিয়ে এলাম তোমার জন্যে । আমি জানি, তুমি হুমায়ুন আহমেদের একজন ভক্ত। রঞ্জন বই বের হওয়া মাত্র তোমাকে কিনে দেয় । ও তো শহরে নাই । তাই আমিই তোমাকে এইবার বইটা কিনে দিলাম।


সুমীর মা ছিল হুমায়ুন আহমেদের আরেক জন ভক্ত। সুমীর পড়ার আগে সেই পড়তে নিল বইটা। আবিষ্কার হলো সুমীকে লেখা প্রেম পত্র। সারা বাড়িতে আরম্ভ হয়ে গেল তুল কালাম কান্ড। রঞ্জনকে ফোন করে জানানো হলো । মেজ ভাই অঞ্জন বলল, বড় ভাইয়ের বন্ধু না হলে সেই এক হাত দেখিয়ে দিত । রঞ্জন ঢাকায় ফিরে কি ব্যবস্তা নিল, তা জানা গেল না। সিরাজের ছায়াও এর পরে তাদের বাসার চারিদিকে দেখা যাই নি। সুমীর জীবনের প্রথম প্রেম পত্র না পড়াই থেকে গেল।


এর বছর খানিক আগে আরেক ঘটনা ঘটেছিল। স্কুলে যাবার পথে , এক ছেলে সুমীকে বিরক্ত করত। অনেক ধরনের নোংরা কমেন্ট করত। সুমী বলল মাকে আর তার থেকে রঞ্জন, অঞ্জন। পরের দিনই ডাইরেক্ট একশান । দুই ভাই যেয়ে ছেলেটার নাক ফাটিয়ে আসল।


এই দুটো ঘটনা কিংবদন্তির মত ছড়িয়ে পরেছিল পুরো পাড়ায়। কোনো ছেলেই নাক ফেটে রক্ত বেরোবে , এই ভয়ে তার দিকে ভুলেও চোখ তুলে তাকাত না । রিমি, ঝুমু, শেলী সবার সঙ্গী জুটল। সুমী একাই থেকে গেল । মাঝে মাঝে ওদের না না অভিজ্ঞতার কত শুনে ঈর্ষা হত । মনে হতো, মা আর ভাইদের কড়া দৃষ্টি না থাকলে সেও অন্য বান্ধবীদের মত আনন্দ করে বেড়াতে পারত । জন অরন্যে অনেক কিছুই ছুয়ে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকতে হতো না ।




মিঠুর কথা সব সময় মনে আসা হলো আরম্ভ পরিচয়ের দু সপ্তাহের মাথায় । সুমী প্রথম চিন্তা গুলো ঝেড়ে ফেলের চেষ্টা করলো । না তাতে , উল্টাটাই হল। আরো বেশী করে মিঠুকে মনে আসতে থাকলো । তার কথা বলার ভঙ্গী , গলার শব্দ, হাটা, চলা , তাকানো , সব কিছু নিয়ে রসিকতা, আর আরো অনেক কিছু। রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেল । চোখ বন্ধ করলেই মিঠুকে স্পষ্ট দেখতে পেত। চোখ খোলা রেখেও বেশী উপকার পাওয়া গেল না । সাথে সাথে ক্ষুধা আহার বন্ধ হওয়ার উপক্রম।সারক্ষণ একটা বমি বমি ভাব। চোখের নীচে কালি পড়ল। নিজেই বুঝলো সে প্রেমে পড়েছে। তাও আবার জীবনে প্রথম বার। মিঠুকে ছাড়া মনে হয় সে বাচতেই পারবে না। না হলে পাগল হয়ে যাবে। প্রথম প্রেমে এরকম ঝামেলা কি সবারই হয়?


পরের মুহুর্তেই ভাবনা আসত, তার তো বিয়ে হয়ে যাবে রাজা নামের আরেক জনের সাথে । তার তো উচিত রাজাকে নিয়ে ভাবা । না তাকে নিয়ে বেশী কিছু ভাবনা আসে না । অল্প কিছুক্ষণের পরিচয়, বিয়ের প্রস্তাব। তার সম্মতি আছে কি না তা জানতেও কেও কেয়ার করে নি । তার অতীত , বর্তমান কিছুই জানা হয় নি। বাবা মা বিয়ের পাকা কথা দেয়ার পরে , একবার মাত্র রাজা দেখা করতে এসেছিল । তেমন কোনো অন্তরঙ্গ কত বার্তা হয় নি ।


সুমী ঠিক করলো তার প্রেমের কথা মিঠুকে বলতে হবে। তাকে রাজী করাতে হবে। তারা দুজনে প্রেম প্রেম খেলা বন্ধ করে আসল প্রেম করবে। তারা প্রমান করে দেখাবে দুই সিংহ রাশীর চিরস্তায়ী সম্পর্ক হতে পারে । দু জনের প্রিয় ফুল আর রং তো একই। তাতেই হবে।এই ভাললাগার উপরেই তারা বানাবে পৃথিবীর সব চেয়ে শক্ত, বড় আর চমৎকার তাজ মহল ।

যত বারই সুমী তার ভালো লাগার কথা বলতে গেছে , মিঠু রসিকতা করে উড়িয়ে দিয়েছে । অনেক দুষ্টুমির মাঝে বলেছে , আমার মাত্র একটাই নাক । আমি চাই না সেই নাকটার ব্রিজ তোমার ভাইরা ধ্বংস করে দিক । শেষে ভবিষ্যত আর পরকাল দুই যাবে । সুমী কোনো ভাবেই বোঝাতে পারল না , তার ভালা লাগায় আর রাজার মধ্যে নেই । সে মিঠুকে ভালো বাসতে চায়। ভীষণ, প্রচন্ড ভালবাসা। যে ভালবাসার উপরে কোনো ভালবাসা হয় নি । মিঠু যুদি একবার হ্যা বলত , সে বাবা মাকে বলে রাজার সাথের তার বিয়ের কথা বাতিল করে দিত। ভাইদের বলতো , খবরদার যাতে তারা কোন ভাবেই মিঠুকে বিরক্ত না করে। তার জীবন যাতে তার মত হয় । অন্য কারোর সাহায্য সেখানে দরকার নাই ।




মিঠুর বুঝতে বেশী সময় লাগলো না, সুমী তাদের সম্পর্ককে অন্য দিনে টার্ন নেয়াতে চাচ্ছে । কিন্তু সে তো সুমীকে সেই ভাবে কখনো চিন্তাই করে নি । তার সাথে প্রেম প্রেম খেলার দুষ্টুমি সে খুবই উপভোগ করে। সুমীকে কখনো ওই ভাবে অনুভব করে নি । মনের কিংবা শরীরের আকর্ষণ হয় নি সম্পর্ক গড়ার মত । ভেবেছে অল্প কয়েক দিন পরে সুমীর বিয়ে হয়ে যাবে। তার আগে কিছু ভালো সময় এক সাথে কাটাতে পারলে খারাপ কি। এর বেশী কিছু ভাবনা তার মধ্যে আসে না ।


এর মধ্যে আরেক ঘটনা হলো। সুমী বলল , আমার বই আর খাতাটা একটু রাখো। আমি দশ মিনিটের আসছি মেয়েদের হোস্টেলের অফিক থেকে। সেখানে একটা ফর্ম জমা দিতে হবে। মিঠু অকারনেই খাতাটা খুলল কিছুটা সময় কাটানোর জন্যে । যা দেখল তাতে চক্ষু চরক গাছ হওয়ার উপক্রম । তার অনেক গুলে ছবি স্কেচ করা। খাতার প্রতিটা পাতায় শত শত বার লেখা , মিঠুকে আমার ভালা লাগে , মিঠুকে আমি ভালবাসতে চাই , মিঠুকে আমি সারাক্ষণ ফীল করি, ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারি না। মিঠু বুঝলো , অনেক বড় ধরনের আকর্ষণ না থাকলে সুমী এই কঠিন কাজ করতে পারতো না। এর জন্যে অনেক সময় দিতে হয়েছে । হয়ত অনেক গুলো রাত জেগে কাজটা করেছে। মিঠু বুঝলো না সে সুমীকে কি বলবে । অবশ্য এমন ভান করলো খাতাটা সে খুলেই নি।


সুমী এসেই বলল, রিকশায় উটো আমি তোমাকে আজকে দুপরে চায়নিস খাওয়াবো। মিঠু রিকশায় যেয়ে উটলো। দু জন দু জনের শরীরের ছোয়া স্পষ্টই পেল। বেশ কিছুক্ষণ কোন কথা হলো না। মিনিট পাচেক পরে সুমী খুব সাহসের একটা কাজ করলো। তোমার শরীরের ছোয়ায় আমি মোমের মত গলে গলে পরছি। এর উত্তর মিঠু কি দিতে পারে তা তার মাথায় এলো না। সে তখন চিন্তা করছে , খাতায় তার ছবি আর তাকে নিয়ে শত শত লেখার কথা। একেবারে অপ্রত্যাশিত না হলেও , এত বড় বড় দুটো ধাক্কা নেয়ার নেয়ার প্রস্তুতি তার ছিল না।

অনেক চেষ্টা করেও . মিঠু বলতে পারল না সে সুমীকে বন্ধুর বেশী কিছু চিন্তা করে না । যে চিন্তা, আবেগ, প্রস্তুতি , আর ভালা লাগা দরকার একটা মেয়ের সাথে প্রেম করার জন্যে , তার কোনটাই তার এখন নাই। তা ছাড়া সুমীকে সে কখনো অন্য ভাবে দেখে নি । তার ভাবনা যে বদলাবে তার কোনো সম্ভাবনা নাই ।




এর পরের ঘটনা , এক সিংহ রাশীর জাতক এক সিংহ রাশীর জাতিকাকে এড়িয়ে চলার । সুমী বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও কথা বলতে পারল না মিঠুর সাথে। চরিত্রের সাথে মিলে না , এমন কিছু কাজ মিঠু করলো। পর পর তিন বার সময় দিয়ে মিঠু আসল না সুমীর সাথে দেখা করতে । আরেকবার , সুমীকে নিয়ে বসালো এমন একটা আড্ডায় যেখানে সবাই ছিল মিঠুর বন্ধু। সুমীর সাথে তেমন কোনো ওদের পরিচয় ছিল না। সুমী অসস্তিতে ভুগতে থাকলো। কিছুক্ষণ পরে উঠে চলে গেল। বলল একটা কাজের কথা মনে পড়ে গেছে ।

সুমী নিজেকে গুটিয়ে নিল মিঠুর থেকে। পথে ঘাটে দেখা হলে , কেমন আছ , ভালো আছি জাতীয় কিছু আনুষ্ঠানিক কথা বার্তার বাইরে তেমন কোনো কথা হয় না। বছর খানিক পরে, শুধু একবার আড়ালে ডেকে মিঠুকে বলল, রাজার সাথে তার বিয়ে হবে না। রাজা আরেক মেয়েকে বিয়ে করেছে। জবাবে মিঠু কিছু বলতে পারল না । চিন্তা করতে থাকলো , সুমী কি এখনো তাকে পেতে চায়। তাকে পাওয়ার জন্যে কি বলছে , রাজার সাথে আরেক মেয়ের বিয়ে হয়েছে।




আরো বছর তিনেক পার হয়ে গেল। অনার্স পরীক্ষার প্রথম দিন। হলে ঢুকার আগে শেষ বারের মত বই , নোটে সবাই চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। মিঠু পরিচিত একটা কন্ঠ শুনলো। শুনো পরীক্ষার পরে একটু অপেক্ষা করো। তোমাকে একটা খবর দেয়ার আছে। আবার পালিয়ে যেও না। ঘুরে তাকিয়ে দেখল সুমী। অদ্ভূত, সুমী নীল শাড়ী পরে পরীক্ষা দিতে এসেছে।


পরীক্ষা দিতে দিতেই অনেক চিন্তা মিঠুর মাথায় খেলতে থাকলো। এত দিন পরে , সুমী তাকে কি বলতে চায়। আবার শাড়ী পরে আসার কি কারণ হতে পারে। মেয়েটার কি বিয়ে হয়ে গেল নাকি। মনে তো তাই হচ্ছে। আর যদি বলে , এখনো সে অপেক্ষায় তা হলে কি উত্তর হবে।


মিঠু পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে দেখে দরজার পাশে সুমী দাড়িয়ে। বলল চলো ওই কোণায় । ভয় নাই এক সিংহ আরেক সিংহকে খেয়ে ফেলতে পারে না। কয়েকটা কথা বলি । যেতে যেতে ব্যাগ থেকে কিছু রজনীগন্ধা ফুল বের করে মিঠুকে দিল। নীল শাড়ী পরা সুমী বলল , মনে আছে তুমি আমাকে একবার রজনীগন্ধা কিনে দিয়ে ছিলে। তা এখন ফিরিয়ে দিছি। আমারটা তোমার দেয়া ফুলের মতো ফ্রেস না। সকালে কেনা তো, তার পরে ব্যাগে ছিল।


যাই হোক তোমাকে বেশী ক্ষণ ধরে রাখব না। তোমাকে একটা খবর দেই। সপ্তাহ দুয়েক আগে আমার বিয়ে হয়েছে। বছর খানকে ধরে আমাদের পরিচয়। ওর প্রিয় রং নীল আর প্রিয় ফুল রজনীগন্ধা। ও আমাকে বলেছে , আমি যখনি নীল শাড়ী পরবো, আমি তখনি রজনীগন্ধা গিফট পাবো। আজ রজনীগন্ধা পেতে ইচ্ছে করছিল। জানি সেটা আজকে পরে হবে। কিন্তু তার থেকে বেশী ইচ্ছে করছিল , তোমার রজনীগন্ধার ঋণটা শোধ করতে।


আরেকটা কথা, ও সিংহ রাশী আর ওর নামও মিঠু ।

উৎসর্গ : যারা তাদের প্রথম প্রেম সারা জীবন ধারণ করেন , তাদের সবাইকে

(গল্প , বাস্তব দু জায়গাতেই প্রধান চরিত্রদ্বয়ের নামের প্রথম অক্ষর একই)

হ্যাপি ভ্যালেনটাইন, ২০১১